A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

ফের স্বামীর বাড়িতে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার এক তরুণী সংখ্যালঘু গৃহবধূ

ফের স্বামীর বাড়িতে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার এক তরুণী সংখ্যালঘু গৃহবধূ

ফের স্বামীর বাড়িতে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার এক তরুণী সংখ্যালঘু গৃহবধূ। অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে বাবাকে ফোন করে বাপের বাড়ি যেতে চাইলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মেয়ের ফোন পেয়ে জামাতার বাড়ি হাজির হলে মেয়ে এবং বাবাকে বেধড়ক মারধোর করা হয়। এতে গুরুতর জখম হন তরুণী বধূর বাবা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে সোনামুড়া থানাধীন কড়ালিয়ামুড়া এলাকায়। ঘটনার জেরে থানায় মামলা করা হলেও অভিযুক্তরা অধরা থেকে যায়। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে সমাজের একটা শ্রেণীর মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কিছুতেই কমছে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে নারী সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা। স্বামী ও শ্বশুর বাড়িতে গৃহবধূদের উপর অত্যাচারের মাত্রাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বধূ নির্যাতন, বধূ খুনের ঘটনা রাজ্যে নিত্যদিনের উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে। সোনামুড়া মহকুমাতে সাম্প্রতিক সময়ে পরপর কয়েকটি বধূ খুনের ঘটনা হয়েছে। কিন্তু এসকল ঘটনার ঘা শুকোতে না শুকোতে ফের আরো একটি বধূ নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসে পড়লো। এবার একই সাথে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে আক্রান্ত হতে হলো বাবা ও মেয়েকে। মেয়ের উপরে প্রতিনিয়ত অত্যচারের খবর পেয়ে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে গেলে মারধোরের শিকার হলেন তরুণী বধূর বাবা। যে কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বয়স্ক লোকটিকে। সোনামুড়া থানাধীন কড়ালিয়ামুড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। জানা যায় আজ থেকে বছর দুয়েক আগে কুলুবাড়ির বাসিন্দা শফিক মিঞার মেয়ে পারুল আক্তারের সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় মুহন মিঞার ছেলে সাদেক মিঞার। সাদেক পেশায় মসজিদের ইমাম। বিয়েতে মেয়ের বাড়ির পক্ষ থেকে সাধ্যমতো যৌতুক দেওয়া হয়। জিনিষপত্র থেকে শুরু করে সমস্ত পাওনা গণ্ডা মিটিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরই শুরু হয়ে যায় তরুণী বধূর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। শুধু পণের জন্য চলে পারুলের উপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। এতকিছুর পরেও বাড়ির লোকজনদের কথা ভেবে মুখ বুঝে সমস্ত সহ্য করে যাচ্ছিল পারুল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে পারুল ফোনে গোটা বিষয়টি তার বাবাকে জানায়। যথারীতি মেয়ের উপর অত্যাচারের কথা শুনে আর থাকতে পারেন নি বয়স্ক শফিক মিঞা। মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সেখানে হাজির হন। কিন্তু অভিযোগ, সেসময় পারুলের স্বামী সাদেক মিঞা, শ্বশুর সুহন মিঞা পারুল ও তার বাবাকে বেধড়ক মারধোর করে। এতে গুরুতরভাবে আহত হন শফিক মিঞা। পরবর্তী সময়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মাথায় ৭টি সেলাই দিতে হয়। সাক্ষাতকারে মেয়ের উপর প্রতিদিন অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন তিনি। অপরদিকে একই দাবি করে নির্যাতিতা গৃহবধূও। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা তাকে প্রতিনিয়ত অত্যাচার চালায় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করে সে। যথারীতি এই ঘটনার জেরে নির্যাতিতা বধূর পক্ষ থেকে সোনামুড়া থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যদিও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত শফিক মিঞাকে আগরতলায় রেফার করা হয়।

Loading...
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/862

Leave a Comment