A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

ছেলের খুনের ন্যায় বিচারের আশায় চোখের জলে মা, মরণজিতের ছবি নিয়ে আজও কাঁদেন জন্মদাত্রী

ছেলের খুনের ন্যায় বিচারের আশায় চোখের জলে মা, মরণজিতের ছবি নিয়ে আজও কাঁদেন জন্মদাত্রী

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ মালিকের নির্দেশে বেআইনি বহুতল ভবনে কাজ করার সময়ে বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজ তারে জড়িয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল ১৯ বছরের যুবক মরণজিত কেওটের। একমাত্র ছেলের মৃত্যু বাবদ সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পরিবারটি পেয়েছিল ৫ লাখ টাকা। কিন্তু ছেলেকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় যুক্ত মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে আদৌ কি সুষ্ঠু বিচার হবে সেটা নিয়ে সংশয়ে মরণজিতের হতভাগ্য মা বাবা।

আজো ছেলের ছবি বুকে আগলে রেখে কেঁদে চলেন জন্মদাত্রী মা। ছেলেকে তো আর ফিরে পাবেন না কোনদিন। কিন্তু একমাত্র ছেলে মরণজিতের জন্য মা মমতা কেওটের মন এখনো ডুকড়ে কাঁদে। গরীব মা বাবার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হতে চেয়েছিল ১৯ বছরের তরতাজা যুবক মরণজিত। গরীব হওয়ায় পড়াশুনাটাও বেশী করতে পারেনি। তাই পেশা হিসেবে দোকানের কর্মচারীর কাজ বেছে নিয়েছিল সে। কিন্তু দোকান মালিকের অতিরিক্ত লোভের শিকার হয়ে মর্মান্তিকভাবে জীবন দিতে হয়েছিল মা বাবার অতি আদরের সন্তানকে। ২০১৮’র ২৬ সেপ্টেম্বরের সেই অভিশপ্ত দিনটি কখনো ভুলবেন না রাজধানী শহরের মানুষ। সেদিন মন্ত্রী বাড়ি রোডের বিগ বাজারের বিপরীতে থাকা ভানু টিম্বারের বহুতল নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজ তারে জড়িয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিল মরণজিত কেওট। বাঁশের সিড়ির সাথে তারে ঝুলে জীবন্ত দগ্ধ হয়েছিল সে। ঘটনাস্থলেই তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। শত শত মানুষ সেই নির্মম ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল। যে ঘটনায় ভানু টিম্বারের মালিক হিমাংশু সাহার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। আলোড়ন বয়ে গিয়েছিল প্রশাসনেও। গোটা ঘটনায় পুর নিগমের বিরুদ্ধেও একরাশ প্রশ্ন উঠেছিল। তড়িঘড়ি পরবর্তী সময়ে নিগমের তরফে সেই অভিশপ্ত বহুতলের নির্মাণ কাজ বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল মাত্র কয়েক মাস আগে। যে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিপ্লব কুমার দেবও স্তম্ভিত হয়েছিলেন। তাই শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে সেই মর্মান্তিক ঘটনার ৫ দিনের মাথায় বর্ডার গোল চক্কর সংলগ্ন এলাকায় নিহত মরণজিতের বাড়ি গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কথা বলেছিলেন নিহত যুবকের মা বাবা এবং একমাত্র বোনের সাথে। সেই সাথে ঘোষণা দিয়েছিলেন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি বিধানের। যথারীতি মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পরদিনই পশ্চিম থানার পুলিশ ভানু টিম্বারের মালিক হিমাংশু এবং তার সহযোগী রতন সূত্রধরকে গ্রেপ্তার করে। ছেলের মৃত্যুর ন্যায় বিচার বলতে এতটুকুই সম্বল মরণজিতের পরিবারের। ইতিমধ্যে ৭ মাস পেরিয়ে গিয়েছে ছেলেকে অকালে হারানোর। কিন্তু আজো ছেলের মৃত্যুর বিচার কতটুকু পেলেন সেটা হাতড়িয়ে যান মা মমতা এবং বাবা রাজেন্দ্র কেওট।

অথচ অর্থের জোরে নিগম থেকে ছাড়পত্র বাগিয়ে এই মুহূর্তে দেদার বাণিজ্য করে চলেছে সেই অভিশপ্ত ভানু টিম্বারের মালিক। যে বিল্ডিং মরণজিতের মৃত্যুর পর ঝাঁপ ফেলে দেওয়া হয়েছিল সেই ঝাঁপ কোন জাদুবলে খুলে গেল সেটাই রহস্য। আদৌ কি সেই মামলায় দোষীরা সাজা পাবে সেটা এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। তবে অর্থ ও প্রতিপত্তির কাছে যুগে যুগে যে বিচারের বানী নিরবে নিভৃতে কাঁদে – মরণজিতের মর্মান্তিক মৃত্যুই হতে পারে এর একটা প্রকৃষ্ট উদাহারন।

  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/711

Leave a Comment