A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

ট্রিপার আটক করে উদ্ধার প্রচুর মাদকের ট্যাবলেট, পুলিশী অভিযানে গ্রেপ্তার ২ যুবক

ট্রিপার আটক করে উদ্ধার প্রচুর মাদকের ট্যাবলেট, পুলিশী অভিযানে গ্রেপ্তার ২ যুবক

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ কাঞ্চনপুরের এসডিপিও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নেশা বিরোধী অভিযান তীব্র করেছেন টিপিএস অফিসার বিক্রমজিত শুক্লদাস। এবার মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে কাঞ্চনপুরের লালজুড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রিপার থেকে প্রচুর পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক ট্যাবলেট ও হেরোইন উদ্ধার করলো পুলিশ। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই  যুবককে। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় পাচার বাণিজ্যে দুই ব্যক্তি।

      একটা সময়ে মাদক পাচারের অন্যতম করিডোর হয়ে পড়েছিল কাঞ্চনপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। মিজোরাম সীমান্তের সাথে এই মহকুমার অবস্থান হওয়ার কারণে পাচারকারীরা সহজেই ভৌগোলিকগত সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নিচ্ছে। জম্পুই কিংবা দামছড়া সীমান্ত দিয়ে এরআগে প্রায়দিন রাজ্যে অবাধে প্রবেশ করতো প্রচুর পরিমাণে ড্রাগস ও নেশা সামগ্রী। তবে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরপরই বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব রাজ্যকে নেশা ও মাদক মুক্ত করে তুলতে আরক্ষা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেন। এরপরই শুরু হয় রাজ্যজুড়ে নেশা বিরোধী তীব্র অভিযান। কাঞ্চনপুরের তখনকার এসডিপিও কিরণ কুমারের নেতৃত্বে গোটা মহকুমাজুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান তীব্র করা হয়। এতে আসে সাফল্যও। আইপিএস অফিসার কিরণ কুমারের বদলির পর সম্প্রতি মহকুমার পুলিশ আধিকারিক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তরুণ অফিসার বিক্রম জিত শুক্লদাস। এরআগে তিনি উত্তর জেলার ধর্মনগর সদরে গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে একাধিকবার মাদক বিরোধী সফল অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সোর্স কাজে লাগিয়ে কিভাবে সাফল্য হাসিল করতে হয় সেটা করে দেখিয়েছেন ত্রিপুরা পুলিশ সার্ভিসের তরুণ অফিসার বিক্রমজিত। এবার কাঞ্চনপুরে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি নেশা বিরোধী অভিযানে একের পর এক সাফল্য অর্জন করতে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসডিপিও এবং কাঞ্চনপুর থানার ওসি পরিতোষ দাসের নেতৃত্বে ফের বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারে সাফল্য পায় পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ পুলিশ লালজুড়ি এলাকার সেগুন বাগানে টহলদারিতে নামে। সেই সময় পানিসাগর থেকে কাঞ্চনপুরের উদ্দেশ্যে আসতে থাকে TR-01G-1702 নম্বরের একটি ট্রিপার ট্রাক। সন্দেহ হতেই পুলিশ গাড়িটি আটক করে। গাড়িটি থামতেই দুজন ব্যক্তি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু ধরা পড়ে যায় বাদল রিয়াং এবং আদিম চাকমা নামে দুই যুবক। এরপর গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে ৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। যার প্রতিটির মূল্য ৮০ টাকা। সেই হিসেবে মোট ২৪ লক্ষ টাকার ইয়াবা আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সেই সাথে তল্লাশিতে পাওয়া যায় আরো ৩২টি হেরোইন জাতীয় নিষিদ্ধ মাদকের কোঠা। সবমিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মাদকের মূল্য ২৫ লক্ষ টাকা হবে বলে জানিয়েছেন এসডিপিও বিক্রমজিত শুক্লদাস। আর এই অভিযান জারি থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। রাতেই মাদক বোঝাই গাড়িটি কাঞ্চনপুর থানার হেপাজতে নিয়ে যায় পুলিশ। পলাতক দুই অভিযুক্তের বাড়ি সোনামুড়ায় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান জারি রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা এই ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড সেই পলাতক দুজন হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে কাঞ্চনপুরে পুলিশের এই অভিযান নিয়ে বেশ স্বস্তি ছড়িয়েছে অভিভাবক মহলে।

Loading...
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/693

Leave a Comment