728 x 90

গোমতী জেলা পুলিশের সফল নেশা বিরোধী অভিযান, দুটি গাড়ি সহ উদ্ধার কোটি টাকার গাঁজা

গোমতী জেলা পুলিশের সফল নেশা বিরোধী অভিযান, দুটি গাড়ি সহ উদ্ধার কোটি টাকার গাঁজা

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ কিল্লা থানার ওসি বিশ্বজিত দেববর্মার তৎপরতায় আবারো নেশা বিরোধী অভিযানে বিশাল সাফল্য পেল গোমতী জেলার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে জাতীয় সড়কের বাগমা কড়ইমুড়া এলাকায় একটি ট্রিপার থেকে ট্যাঙ্কার গাড়িতে লোডিং করার সময়ে প্রচুর পরিমাণ শুকনো গাঁজার প্যাকেট আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে জেলা পুলিশ সুপার এ আর রেড্ডির উপস্থিতিতে গাঁজার কনসাইনমেন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। উদ্ধার হওয়া গাঁজার মূল্য অন্তত কোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন এসপি।

         সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গাঁজা বিরোধী অভিযানে স্মরণীয় সাফল্য পেল গোমতী জেলার পুলিশ। যে সাফল্যের নেপথ্যে অন্যতম নায়ক হয়ে থাকলেন কিল্লা থানার তরুণ ওসি বিশ্বজিত দেববর্মা। এমনিতেই তুখোড় তদন্তকারী অফিসার হিসেবে ইতিপূর্বেও সাফল্য দেখিয়েছেন দেশের সেরা এলিট ফোর্স এনএসজি ট্রেইনড প্রাপ্ত এই অফিসার বিশ্বজিততাই যে থানাতেই যোগ দেন সেখানেই সাফল্য ও দক্ষতার নজির রাখতে সক্ষম হন তিনি। এক বছর আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই গোটা রাজ্যে নেশা বিরোধী অভিযান তীব্র হয়। মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নির্দেশে সারা রাজ্যেই একযোগে শুরু হয় নেশা ও মাদক বিরোধী অভিযান। যে অভিযানে গ্রেপ্তার হয় ৫ শতাধিক লোক। উদ্ধার হয় হাজার হাজার কেজি গাঁজা। বাজেয়াপ্ত হয় প্রচুর পরিমাণ হেরোইন, ব্রাউন সুগার, ইয়াবা জাতীয় মাদক। আর সেই অভিযান এখনো জোরদার গতিতে অব্যাহত রয়েছে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আবারো গাঁজার বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল গোমতী জেলার পুলিশ। জানা গেছে গভীর রাতে আগরতলা সাব্রুম জাতীয় সড়কের বাগমা কড়ইমুড়া স্কুল মাঠে শুকনো গাঁজার কনসাইনমেন্ট লোডিং করা হচ্ছিল। আর সেই খবর গোপন সূত্রে পেয়ে যান কিল্লা থানার ওসি বিশ্বজিত দেববর্মা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক মুহূর্তে দেরী না করে দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ওসি। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি সেখান থেকে চম্পট দেয় নেশা কারবারীরা। ঘটনাস্থলে TR-01-1723 নম্বরের ট্রিপার এবং AS-01-AC-2529 নম্বরের একটি ১০ চাকার তেলের ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পায় পুলিশ। দেখা যায় ট্রিপার গাড়ি থেকেই ট্যাঙ্কারের মধ্যে শুকনো গাঁজার প্যাকেট লোডিং করা হচ্ছিল। দুটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণ গাঁজার প্যাকেট। যথারীতি ওসি বিশ্বজিত দেববর্মা এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার এ আর রেড্ডি, এসডিপিও হিমাদ্রি প্রসাদ দাস বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরবর্তী সময়ে দুটি গাড়ি নিজেদের হেপাজতে নিয়ে যায় পুলিশ। দুটি গাড়ি থেকে ১২৩ বান্ডিল গাঁজার প্যাকেট পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন এসপি। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায় নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এ আর রেড্ডি। তবে গাড়ির সুত্র ধরে অভিযুক্তদের জালে তোলা হবে বলে জানান তিনি। খুব কম সময়ের মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন এসপি। আগামী দিনেও নেশা বিরোধী অভিযান জারি রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন গোমতী জেলার এসপি। নেশার বিরুদ্ধে কোন প্রকার আপোস করা হবে না বলে মত ব্যক্ত করেন তিনি। মাত্র কয়েকদিন আগে মহারাণী পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি কান্ডের তদন্তে নেমে দ্রুত সাফল্য হাসিল করে গোমতী জেলার পুলিশ। যে সাফল্যের পেছনেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন কিল্লা থানার ওসি। আর এবার বিপুল পরিমাণে গাঁজা উদ্ধারের নেপথ্যেও অন্যতম সফল কারিগর হয়ে থাকলেন ওসি এবং তাঁর টিম।

Loading...
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/649

Leave a Comment