728 x 90

ব্যালট পেপার কারচুপি কান্ডে শাস্তি অধরা বামভক্ত টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্টের, গেরুয়া নামাবলী চাপিয়ে পিঠ বাঁচানোর প্রয়াস

ব্যালট পেপার কারচুপি কান্ডে শাস্তি অধরা বামভক্ত টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্টের, গেরুয়া নামাবলী চাপিয়ে পিঠ বাঁচানোর প্রয়াস

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ সরকারি অর্থের নয়ছয় সহ একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে ব্লকের এক বামভক্ত টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্ট। বরং পিঠ বাঁচাতে রাতারাতি গায়ে গেরুয়া শালু জড়িয়ে নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়েছে এই সরকারি কর্মী সঞ্জীব দাস। যার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পেটানো থেকে শুরু করে বামেদের হয়ে ব্যালট পেপার কারচুপি, উন্নয়ন মূলক কাজে আর্থিক কেলেঙ্কারি সহ আরো নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এই গুণধর সঞ্জীবের কড়কড়ে নোটের কাছে নিজের সম্ভ্রম খুইয়ে সাব্রুমের ৩ জন সাংবাদিককে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে মনু থানার ওসি নকুল দেববর্মার বিরুদ্ধে। সঞ্জীবের অপকর্মে পরোক্ষভাবে মদতদানের অভিযোগ উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে।

        বাম জমানার কট্টর কমরেড হয়েও রাম জমানাতেও ধরাছোঁয়ার বাইরে দক্ষিণ জেলার সাতচাঁদ ব্লকের বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত এক টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্ট। বাম ভক্ত এই কমরেড সঞ্জীব দাস একটা সময় এলাকার বাম সাংসদের অতি ঘনিষ্ঠ বলেও নিজের পরিচয় জাহির করতো। আর কমিউনিস্ট জমানায় বাম নেতাদের নাম ভাঁড়িয়েই নানা আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছিল এই কট্টর কমরেডের বিরুদ্ধে। যদিও সময়ের স্রোতে আজ বাম নেতারা তার কাছে এখন অপাংক্তেয়। বরং নিজের পিঠ বাঁচাতে ৩ মার্চের পর রাতারাতি লাল ছেড়ে গেরুয়া শালু জড়িয়ে নেয় এই অতি বাম ভক্ত স্বঘোষিত বিপ্লবী। এর একটা মাত্রই কারণ, বাম জমানায় জনসাধারণের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে চলা আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে যাতে দায়ভার এড়ানো যায়। শুধু আর্থিক কেলেঙ্কারিই নয়, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনু বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি বুথে চক্রান্ত করে বিরোধীদের হারিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে বাম ঘরানার এই টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্ট সঞ্জীব দাসের বিরুদ্ধে। শুধু কি তাই? একেবারে গণনা কেন্দ্রে ব্যালট পেপার কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছিল অধুনা গেরুয়া শালু জড়ানো এই কমরেডের বিরুদ্ধে। এক সময়ে মনু বাজার সিপিএম অঞ্চল কমিটির সক্রিয় সদস্যও হিসেবে নামডাক ছিল তার। এরমধ্যে কালাপানিয়া পঞ্চায়েতের একটি রাস্তা নির্মাণের কাজে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে জড়িয়ে যায় সঞ্জীবের নাম। স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে গত ২৮ আগস্ট নির্মাণ কাজের গুনমান খতিয়ে দেখতে যান সাব্রুমের দুই সাংবাদিক ত্রিদিপ পাল ও বিজন চক্রবর্তী। কিন্তু নির্মাণ স্থলে গিয়ে দুই সাংবাদিকের সাথে চূড়ান্ত অভব্য আচরণের অভিযোগ উঠে টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্ট সঞ্জীব দাসের বিরুদ্ধেঅভিযোগ সঞ্জীব ও তার সাকরেদরা দুজনকে দৈহিক নির্যাতন সহ ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা এবিষয়টি সাব্রুম প্রেস ক্লাবের কর্মকর্তাদের জানান। এরপর প্রেস ক্লাব থেকে সিনিয়র সাংবাদিক বন্দন দাস সহ কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগ সেসময় সঞ্জীব ফের সাংবাদিকদের সাথে অশালীন আচরণ করে। এদিনই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মনু থানায় সঞ্জীব দাসের বিরুদ্ধে লিখিত মামলা দায়ের করা হয়। যদিও মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন নি ওসি নকুল দেববর্মা। বরং উল্টে ৫ দিনের মাথায় ওসির প্রত্যক্ষ মদতে সঞ্জীব দাস ৩ সাংবাদিক ত্রিদিপ, বিজন ও বন্দনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে। এমনকি ওসি সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলায় আদালতে কোন প্রকার তথ্য না দিয়ে সঞ্জীবের মিথ্যে মামলায় ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট পাঠিয়ে দেন। যে মামলায় ৩ সাংবাদিককেই ব্যক্তিগত বন্ডে আদালত থেকে জামিন নিতে হয়। পাশাপাশি আদালত সঞ্জীবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথিপত্রও তলব করে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া যাবতীয় তথ্য তুলে ধরে ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন সাব্রুম মহকুমার সিনিয়র সাংবাদিক বন্দন দাস।

           অথচ বর্তমান সরকারের কান্ডারীরা চাইছেন স্বচ্ছ ও দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার। কিন্তু সঞ্জীব দাসের মতো গুণধরেরা রাজ্য প্রশাসনের সেই প্রচেষ্টায় জল ঢালতে মুখিয়ে রয়েছে। এত কিছুর পরেও কোন এক কারণে এখনো এসকল দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। যে কারণে বামভক্ত সঞ্জীবদের দৌরাত্ম্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। সেই সাথে মনু থানার ওসি নকুল দেববর্মার ভুমিকাও দাঁড়িয়ে পড়েছে অভিযোগের কাঠগড়ায়। তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি উঠে পড়েছে।

Wedding Tripura
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/641

Leave a Comment