728 x 90

মাদক কারবারীদের কোমর গুঁড়িয়ে দিতে তৎপর পুলিশ, ড্রাগসের বিরুদ্ধে আপোসহীন লড়াই জারি

মাদক কারবারীদের কোমর গুঁড়িয়ে দিতে তৎপর পুলিশ, ড্রাগসের বিরুদ্ধে আপোসহীন লড়াই জারি

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ মাদকের বিরুদ্ধে কোন আপোস নয়যেই ব্যক্তি বা রাঘব বোয়াল হোক না কেন মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলেই নেওয়া হবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা। কারণ এসকল মাদক কারবারীদের হাত ধরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যুব প্রজন্মের একটা বড় অংশ। সামাজিকভাবে অপদস্থ হতে হচ্ছে মাদকাচ্ছন্ন ছেলেমেয়েদের পরিবারগুলির অভিভাবকদের। তাই সুশীল, লক্ষ্মীদের মতো মাদক পাচারকারীদের কোনভাবেই রেয়াত করা হবে না। এমনই অনড় মনোভাব নিয়ে নেশা ব্যাপারীদের কোমর গুড়িয়ে দিতে তৎপরতা জারি রেখেছে আরক্ষা প্রশাসন।

           নিষিদ্ধ ড্রাগস কারবারীদের বিরুদ্ধে আরক্ষা দপ্তরের জিরো টলারেন্স। কাউকেই রেয়াত নয় – এমনই বজ্র কঠিন মানসিকতা নিয়েই গোটা রাজ্যে দফাওয়ারি অভিযান জারি রেখেছে পুলিশ প্রশাসন। সারা রাজ্যের সাথে রাজধানী আগরতলাতেও মাদক ও নেশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই পশ্চিম জেলা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে মাদক কারবারের একাধিক মাস্টারমাইন্ড। যার মধ্যে তালিকায় সবচাইতে উপরের দিকে রয়েছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর সুশীল দেববর্মা। শহরের শঙ্কর চৌমুহনী লাগোয়া তার ভাড়া বাড়িতে গত ২৫ ডিসেম্বর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করতে পেরেছিল মাদক লেনদেনের নগদ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। এই সুশীলের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ সে পুলিশের উর্দিকে কাজে লাগিয়ে যুব সমাজের একটা বড় অংশকে মাদকের নেশায় টেনে এনেছিল। এর পাশাপাশি খাকি উর্দির জুজু দেখিয়ে যুবকদের একাংশকে দিয়ে শহরের বুকে মাদক বিক্রি করতেও বাধ্য করতো। গুণধর এই অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এমনই বিস্ফোরক তথ্য জানতে পেরেছিলেন তদন্তকারীরা। পশ্চিম থানায় রুজু থাকা এনডিপিএস আইনের ৪৬/১৮ নম্বর মামলার সুত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল সুশীল। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল সুশীলেরই আরো দুই আত্মীয় মাধবী দেববর্মা ও পার্থ চক্রবর্তী। পরবর্তী সময়ে পুলিশের যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয় ড্রাগস কারবারের আরো এক অন্যতম হোতা পাউডার রাজু ওরফে নিহার রঞ্জন রায়। এই পাউডার রাজুর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে শহরের দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের মামলার খাঁড়াও ঝুলে রয়েছিল। সেই দুটি মামলায় জামিনে থাকার সময়েই মাদক কারবারে নাম লেখায় রাজু পাউডার। এরমধ্যে পাচারকালে আগরতলা এমবিবি এয়ারপোর্ট থেকে নিষিদ্ধ ড্রাগস হেরোইন সহ গত ১৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হয় দুই যুবক। ধৃত প্রতাপগড়ের সত্যেন্দ্র ঘোষ এবং গান্ধীস্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মান্না সাহার কাছ থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা, সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার ব্ল্যাঙ্ক চেক এবং ৫টি মোবাইল ফোন। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৭০ গ্রাম। সেই ঘটনায় ধৃত দুই যুবক বর্তমানে আদালতের নির্দেশে এয়ারপোর্ট থানায় ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। সূত্রে খবর, ধৃতদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে রাজধানীতে মাদক চক্র সম্পর্কে আরো বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সহসাই পুলিশ অভিযান চালাবে বলেও খবর। মোট কথায় এই যাত্রায় মাদক কারবারীদের কোমর ভেঙে দিতে কোথাও কোন গলদ রাখতে চাইছে না পুলিশ।

Loading...
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/610

Leave a Comment