A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

নেশা কারবারীদের ডেরায় পুলিশ সুপারের হানা, উদ্ধার নগদ ৬ লক্ষ টাকা সহ বিপুল পরিমাণ মাদক

নেশা কারবারীদের ডেরায় পুলিশ সুপারের হানা, উদ্ধার নগদ ৬ লক্ষ টাকা সহ বিপুল পরিমাণ মাদক

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ ফের নেশা কারবারীদের গোপন ঠেকে উত্তর জেলার পুলিশের সফল অভিযান। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে ধর্মনগর পশ্চিম চন্দ্রপুর এলাকায় নেশা বিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। এলাকার দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন জাতীয় ড্রাগস ও নগদ ৬ লক্ষ টাকা সহ ২টি গাড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পাশাপাশি ড্রাগস বারের হদিশ পায় অভিযানকারী টিম। উত্তর জেলার পুলিস সুপার ভানুপদ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে চলে এই সফল অভিযানমাদক বানিজ্যের সাথে যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না বলে এদিন ফের হুঁশিয়ারি দেন জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক।

          উত্তর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর একের পর এক সফল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন আরক্ষা দপ্তরের অভিজ্ঞ অফিসার ভানুপদ চক্রবর্তী। বিশেষ করে গোটা জেলা থেকে  নেশা ও মাদক কারবারকে গুঁড়িয়ে দিতে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন জায়গায় জারি রয়েছে ঝটিকা অভিযান। এতে সাফল্য আসছে বেশ। এসপি’র অভিযানের আতঙ্কে নেশা কারবারীরা তাদের বানিজ্যের কৌশল পাল্টে ফেলছে। কিন্তু এতেও রেহাই মিলছে না। সোর্স মারফতে খবর পেলেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে নেশা কারবারীদের ঠেক গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ফের মাদক বিরোধী অভিযানে জেলা পুলিশ ও ধর্মনগর থানার বড়সড় সাফল্য। বৃহস্পতিবার এক সফল অভিযানে বাজেয়াপ্ত হল কয়েক লক্ষাধিক টাকা সহ বিপুল পরিমাণ মাদক।  এদিন সকালে ধর্মনগর শহরে একটি গাড়ি দেখে সন্দেহ দেখা দেয় জনসাধারণের। কারণ সেই গাড়িকে এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল একটি TR 05-B-7206 নম্বরের একটি বাইক। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে যান জেলা পুলিস সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী। এরপর এসপি এবং ধর্মনগর থানার ওসি দেবপ্রসাদ রায় বিশাল পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানদের নিয়ে ধাওয়া করেন গাড়ির পেছনে পরবর্তীতে ধর্মনগর পশ্চিম চন্দ্রপুর এলাকা থেকে দুটি গাড়ি ও একটি বাইক আটক করা হয়গাড়িগুলি ছিল একটি AS-01AM-7015 নম্বরের বলেরো গাড়ি এবং অপরটি ML-05L-2327 নম্বরের হুন্ডাই কোম্পানীর গাড়ি। যথারীতি এরপর পুলিশ ওই এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন ও পশ্চিম চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সিপিএম মেম্বার মনির উদ্দিনের ভাই -  কুটি মিঞার বাড়ীতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে ২২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০০ গ্রাম হেরোইন, ৩টি মোবাইল এবং নগদ ৫ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ পাশাপাশি একটি হাতির দাঁতও উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া দাঁত আসলে কি হাতির কিনা সেটা ফরেনসিক পরীক্ষার পরই জানা যাবে। অপরদিকে জামাল উদ্দিন ও কুটি মিয়াঁর বাড়ীর পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ড্রাগস সেবনের বার পাওয়া যায়তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ভেতরে থাকা লোকজন সহ অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন ও কুটি মিয়াঁ। পুলিশ জানতে পারে এই ড্রাগস বারের ভিতরে চলত যুবক যুবতিদের ড্রাগস সেবন। অভিযানে নেমে কুটি মিয়াঁর বাড়ী থেকে কিছু কিছু হেরোইন সহ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তবে পুলিস সুপার তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করেন নি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম চন্দ্রপুর এলাকায় এই ড্রাগস ব্যবসা চললেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিস তবে এইবার পুলিস সুপার সোর্স মারফত খবর পেয়ে অভিযানে নেমে হাতেনাতে সাফল্য লাভ করলেন। আটক করা ড্রাগসের বাজার মূল্য অন্তত কোটি টাকার উপর হতে পারে

            অভিযানের পর ধর্মনগর থানায় পুলি ভারতীয় দণ্ডবিধির NDPS ধারায় মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।  জেলা পুলিশ সুপারের পাশাপাশি ধর্মনগর থানার নতুন ওসির দায়িত্ব নিয়ে সিনিয়র ইন্সপেক্টর দেবপ্রসাদ রায়ও ড্রাগস কারবারীদের কোমর ভেঙে দিতে তৎপরতা জারি রেখেছেন। তবে বাম নেতার বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকা সহ ড্রাগস উদ্ধারের ঘটনায় একটা বিষয় পরিষ্কার যে বাম জমানাতেই এই মাদক বানিজ্যের রমরমা শুরু হয়েছিল। যা বিজেপি জমানার অনড় মনোভাবে ধরা পড়ছে।

  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/609

Leave a Comment