A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

গণ্ডাছড়ায় জোড়া হত্যাকান্ডে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন এক অভিযুক্ত

গণ্ডাছড়ায় জোড়া হত্যাকান্ডে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন এক অভিযুক্ত

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতিদের হাতে নৃশংস খুন দুই ব্যক্তি। বাইকে যাওয়ার সময়ে তাদের পথ আটকে মাথায় মোটা লাকড়ির কাঠ দিয়ে আঘাত করে দুষ্কৃতিরা। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তপন দাস ও জয়শা ত্রিপুরা নামে দুই বিজেপি কর্মীরমাঝ রাতে রাস্তায় টহল দেওয়ার সময়ে টিএসআর জওয়ানদের নজরে আসে দুজনের রক্তাত্ত দেহ। এরপরেই থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে গণ্ডাছড়া থানাধীন আমবাসা রোডের তারাবন কলোনি এলাকায়। হত্যাকান্ডের ৪৮ ঘণ্টার মাথায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে সন্দেহভাজন এক অভিযুক্ত নবীন জয় ত্রিপুরাকে।   

চানমোহন ত্রিপুরার পর ফের ঘাতকদের নিশানায় শাসক বিজেপি দলের দুই কর্মী। আবারো নৃশংস খুন করা হলো দুই যুব কর্মীকে। শাসক দলের শরিক আইপিএফটির ডাকা দুদিনের সড়ক অবরোধের রেশ কাটতে না কাটতে ফের গণ্ডাছড়া মহকুমার আইন শৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে পড়লো। দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা বাদে ধলাই জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ তুলে নেওয়ার রাতেই গণ্ডাছড়া আমবাসা সড়কে বিজেপি সমর্থিত দুই ব্যক্তিকে নৃশংস খুন করলো দুষ্কৃতিরা। স্বাভাবিক কারণে এই হত্যাকান্ডের সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না পুলিশের তদন্তকারীরাও। যে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জনমনে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি দেখা দিল অজানা আতঙ্ক। খুনের ঘটনাস্থল অপেক্ষাকৃত নির্জন এলাকা বলেই পরিচিত মহকুমাবাসীর কাছে। শুক্রবার দিনভর এই ঘটনাকে দৌড়ঝাঁপ চলল আরক্ষা দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে গণ্ডাছড়া থানা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে আমবাসা সড়কের তারাবন কলোনি এলাকায়। জানা যায়, পেশায় অটো চালক তথা সক্রিয় বিজেপি কর্মী তপন দাস এবং জয়শা ত্রিপুরা রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বাইকে চেপে জগবন্ধু পাড়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সেখানে অবরোধের কারণে তপনের একটি অটো আটকে পড়েছিল। তাই জয়শাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন অটোটি বাড়িতে নেওয়ার জন্য। কিন্তু মাঝ রাস্তায় তাদের পথ আটকে কে বা কারা লাকড়ি কাঠ দিয়ে দুজনের মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করে চলে যায়। এভাবে রক্তাত্ত অবস্থায় দুজনের দেহ পড়ে থাকে রাস্তায়। রাতের বেলায় এই সড়ক দিয়ে সচরাচর যানবাহন তেমন একটা চলাফেরা করে না। কদাচিৎ নিরাপত্তা বাহিনীর যানবাহন এই সড়ক দিয়ে যায়। এমতাবস্থায় মাঝরাত আড়াইটা নাগাদ ওই সড়ক দিয়ে টহলে বেরোয় টিএসআর জওয়ানরা। তখনই জওয়ানদের নজরে আসে দুই ব্যক্তির রক্তাত্ত দেহ। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি থানায় জানায় তারা। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাত্ত তপন ও জয়শাকে উদ্ধার করে গণ্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। যদিও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে শুক্রবার সকালে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন দুজনের পরিবারের লোকেরা। কি কারণে তাদের খুন হতে হলো সেটা জানতে পারলেন না বাড়ির লোকেরা। শুক্রবার ফের ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে যান গণ্ডাছড়া থানার ওসি কিশোর উচই এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক তুহিন ত্রিপুরা। তদন্তের জন্য আমবাসা থেকে ডগ স্কোয়াড এবং উদয়পুর থেকে ফরেনসিক এক্সপার্টদের নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও পুলিশ কুকুর রক্তাত্ত জায়গা থেকে বেশিদূর যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে খুনের কাজে ব্যবহৃত গাছের মুগুর, তিন জোড়া হাওয়াই চপ্পল এবং নিহত তপন দাসের মোটর বাইক। চোখের সামনে প্রিয়জনের নিথর ও রক্তাত্ত দেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জয়শা ত্রিপুরার স্ত্রী এবং আত্মীয়রা। তারা জানিয়েছেন তপনের বারবার ডাকাডাকিতে তার সাথে রাতের বেলায় বাইকে চেপে গিয়েছিলেন।

এদিনই নিহতদের দেহ ময়না তদন্ত করে আত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৃহস্পতিবার রাতে তারা যখন বাইকে যাচ্ছিল সেসময় তৃতীয় এক ব্যক্তি বাইকের সওয়ারী হিসেবে ছিল। যদিও হত্যাকান্ডের পর সেই ব্যক্তি রাতারাতি গায়েব হয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে তিন জোড়া হাওয়াই চপ্পল উদ্ধার হওয়ায় সেই তৃতীয় জনের সাথে দুষ্কৃতিদের যোগসাজশ থাকার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় তদন্তকারীদের কাছে। এদিকে গণ্ডাছড়া বাজারের অটো সিন্ডিকেটে প্রয়াত দুই কর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান মোটর শ্রমিকরা। সেই সাথে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় শ্রমিকরা। বিজেপি নেতা চানমোহন ত্রিপুরার পর তপন ও জয়শা ত্রিপুরাকে খুনের ঘটনায় শাসক শিবিরের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা দিয়েছে। অনেকে আবার এই ঘটনায় শরিক দলের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। বাকিটা বলা যাবে পুলিশের সুষ্ঠু তদন্তের পরই। তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় নবীন জয় ত্রিপুরা নামে এক অভিযুক্ত। যে আবার রাইমাভ্যালী কেন্দ্রের আইপিএফটি দলের বিধায়ক ধনঞ্জয় ত্রিপুরার নিকটাত্মীয়।

  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/716

Leave a Comment