A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

চিকিৎসক নিগ্রহ কান্ডে গ্রেপ্তার আরও ২ অভিযুক্ত, বাকিদের জালে তোলার প্রচেষ্টা

চিকিৎসক নিগ্রহ কান্ডে গ্রেপ্তার আরও ২ অভিযুক্ত, বাকিদের জালে তোলার প্রচেষ্টা

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ আইজিএম হাসপাতালের চিকিৎসক দীপঙ্কর দেবনাথকে প্রাণে মারার চেষ্টার ঘটনায় আরো দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। এনিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ জন অভিযুক্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে অভিযুক্তদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারী অফিসার। তারপরই ঝটিকা অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে শানমুড়া এলাকার বাসিন্দা লিটন দাস এবং বিশ্বজিত দাসকে। কি নৃশংসতায় ১১ এপ্রিল ভোর রাতে দীপঙ্করকে মারধোর করা হয়েছে সেই বিস্ফোরক ভিডিও চলে এসেছে হেডলাইন্স ত্রিপুরার হাতে।

চিকিৎসা পরিষেবাকে সচল রাখা কিংবা উন্নত করার গুরু দায়িত্ব যাদের হাতে সাম্প্রতিক সময়ে তারাই আক্রান্ত কিছু দুষ্কৃতির হাতে। তবে ১১ এপ্রিল ভোর রাতে আইজিএম হাসপাতালে এক তরুণ চিকিৎসক দীপঙ্কর চক্রবর্তীকে একদল উন্মত্ত জনতা বর্বরোচিতভাবে আক্রমণ করে প্রাণে মারার চেষ্টার ঘটনা রাজ্যের বুকে স্মরণাতীত সময়ের মধ্যে নজির বিহীন হয়ে থাকবে। কি নৃশংসতায় সেদিন অসহায় ডাক্তারকে মারধোর করা হয়েছিল যা প্রত্যক্ষ করে শিউরে উঠেছিলেন হাসপাতালের সমস্ত স্বাস্থ্য কর্মীরা। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের উপর আঘাত এসেছিল। কিন্তু কোনটাই এধরনের হয়নি। তাইতো একযোগে প্রতিবাদ উঠেছিল চিকিৎসক সমাজের মধ্য থেকে। প্রতিবাদে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করতে হয়েছিল চিকিৎসকদের। মাম্পি দাস নামে এক প্রসূতি রোগীনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত হয়েছিলেন তরুণ চিকিৎসক দীপঙ্কর দেবনাথ। অথচ সেই রোগীনিকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করে গিয়েছিলেন দীপঙ্কর সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা। তবে এতকিছুর পরেও মৃতার কিছু উশৃঙ্খল আত্মীয় পরিজন দলবেঁধে এসে একেবারে ডিউটি রুমে ঢুকে দীপঙ্করের উপর চড়াও হয়। ২৫/৩০ জন লোক বেদম মারতে মারতে চিকিৎসককে রুম থেকে বের করে নিয়ে যায়। এমনকি তার পরনের টিশার্টও ছিঁড়ে ফেলে দেয়। অমানুষিকভাবে যুবক থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী লোক পর্যন্ত তাকে মারধোর করে। যে অমানবিক দৃশ্য ধরা পড়ে হাসপাতালে থাকা সিসি ক্যামেরাতেও। একটা সময়ে উত্তেজিত লোকজনদের হাত থেকে রেহাই পেতে খালি গায়ে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন দীপঙ্কর। কিন্তু এরপরও পেছন থেকে তাড়া করে ওই দুষ্কৃতিরা। ঘটনার দিনই পশ্চিম থানার পুলিশ ৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এরা হচ্ছে খোকন দাস, সুমন দাস, অর্জুন দাস, বিকাশ দাস এবং প্রদীপ চন্দ্র দাস। যদিও পুলিশের ফরোয়ার্ডিং রিপোর্টের দুর্বলতার কারণে সেদিনই আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় অভিযুক্তরা। যে ঘটনায় ক্ষোভ এবং প্রতিবাদে ফেটে পড়েন চিকিৎসক সমাজ। এমনকি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অবশ্য পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত অভিযুক্তদের জামিন বাতিলের নির্দেশ দেয়। এই অবস্থায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আরো বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে সনাক্ত করে পুলিশ। তারমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় লিটন দাস এবং বিশ্বজিত দাস নামে আরো দুই অভিযুক্তকে। তাদের বাড়ি শানমুড়া এলাকায়। বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি সুব্রত চক্রবর্তী।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ এনে কোন চিকিৎসককে শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা খুবই অমানবিক এবং দুঃখজনক। যা সভ্য সমাজে কাম্য নয়। চিকিৎসা করতে গিয়েও তাদেরও ভুলত্রুটি হতে পারে। কিন্তু তাই বলে কোন চিকিৎসককে পেটানো কিংবা প্রাণে মারার চেষ্টা কোন অবস্থাতেই সমর্থন যোগ্য হতে পারেনা। প্রয়োজনে বিচার পেতে আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন যে কেউ। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এই মুহূর্তে দীপঙ্কর দেবনাথকে শারীরিক নিগ্রহ এবং প্রাণে মারার চেষ্টার ঘটনায় যথোপযুক্ত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি বিধানের জোর দাবি উঠেছে।

Loading...
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/713

Leave a Comment