A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি কান্ডে ওসির তৎপরতায় গ্রেপ্তার মাস্টারমাইন্ড

পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি কান্ডে ওসির তৎপরতায় গ্রেপ্তার মাস্টারমাইন্ড

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ উদয়পুরের মহারাণী পেট্রোল পাম্পে দুঃসাহসিক ডাকাতি কান্ডের মামলার তদন্ত গুটিয়ে আনতে সক্ষম হল গোমতী জেলার পুলিশ। বুধবার জম্পুইজলার থেলাকুম বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ডাকাতির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড রামচন্দ্র জমাতিয়াকে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় রামচন্দ্রকে নিয়ে মোট ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। উদয়পুরের এসডিপিও এবং কিল্লা থানার ওসির নেতৃত্বে জালে তোলা হয় ৮ নম্বর অভিযুক্তকে। এরআগে কিল্লা থেকে ৬ জন এবং আগরতলা থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

          কাজ করার ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে যে কোন মামলাতেই দ্রুত সাফল্য হাসিল করতে পারে পুলিশ। কিন্তু সেই মানসিকতার বড়োই অভাব। তবে এখনো কিছু অফিসার রয়েছেন যারা কাজের মানসিকতা ধরে রাখেন। উদয়পুরের মহারাণী পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি কান্ডের তদন্তে পুলিশের বিশেষ টিমের তৎপরতাতেই দ্রুত সাফল্য এলো। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে আরকেপুর থানাধীন মহারাণীর জয়ন্তী ফিলিং স্টেশন নামে এক পেট্রোল পাম্পে হানা দিয়ে লুটপাট চালিয়েছিল একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতিমুখে কালো কাপড় বেঁধে অত্যাধুনিক হাতিয়ার নিয়ে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতিরা পেট্রোল পাম্পে ব্যাপক লুটপাট চালায়পাম্প কর্মীদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে লুট করে নিয়েছিল নগদ প্রায় ২ লক্ষাধিক নগদ টাকা। লুটপাট চালানোর পরই বাইক নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। পরবর্তী সময়ে শুরু হয় পুলিশের দৌড়ঝাঁপ। ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন খোদ জেলা পুলিশ সুপার এ আর রেড্ডির সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ। খতিয়ে দেখা হয় পেট্রোল পাম্পের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। পরে গোপন সূত্রে দুষ্কৃতি চক্রের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। সেই খবরের ভিত্তিতে কিল্লা থানার তরুণ ওসি বিশ্বজিত দেববর্মা দলবল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ডাকাতদের ডেরায় ঝটিকা তল্লাশি অভিযান সংঘটিত করেন। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ডাকাত দলের সদস্য কিল্লার পুস্প সাধন জমাতিয়া, কৃষ্ণ বাবু মলসম, ভিক্টর জমাতিয়া, সিধাইয়ের স্বপন দেববর্মা, অম্পির ফাল্গুন জমাতিয়া এবং পিত্রার দয়াল জমাতিয়াকে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি স্বয়ংক্রিয় পিস্তল, লুট করা অর্থের নগদ ৩৪,৮৩০ টাকা এবং বাইক। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ধৃতরা সকলেই আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি দলের সদস্য। তবে পুলিশের হাতে অধরা থাকে ডাকাত দলের আরো কয়েকজন। পরে আগরতলার লেইক চৌমুহনী এলাকায় ভাড়া বাড়ি গ্রেপ্তার করা হয় মহারাণী কান্ডের সাথে যুক্ত মান্দাইয়ের বাসিন্দা লক্ষণ দেববর্মাকে। জানা যায় ধৃত লক্ষণ পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি কান্ডে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। তার কাছ থেকে অন্য দুষ্কৃতিরা ৬৮ হাজার টাকা দিয়ে পিস্তল কিনেছিল এই অবস্থায় ডাকাত দলের মাস্টারমাইন্ডের জম্পুইজলা এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার খবর পেয়ে যান এসডিপিও হিমাদ্রি প্রসাদ দাস এবং ওসি বিশ্বজিত দেববর্মা। সেই খবরের ভিত্তিতে জম্পুজলার থেলাকুম বাজার এলাকায় দুই অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ডাকাতি কান্ডের অন্যতম হোতা রামচন্দ্র জমাতিয়াকে। তাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ধৃত ব্যক্তিকে পুলিশ রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবারই আদালতে সোপর্দ করা হবে। তার কাছ থেকে এই মামলায় আরো বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ। তবে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় পুলিশের দ্রুত সাফল্যের পেছনে কিল্লা থানার ওসি বিশ্বজিত দেববর্মার বিশেষ অবদান রয়েছে বলেও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/648

Leave a Comment