A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

ধর্মনগরের হাফলঙে নৃশংস খুন এক মহিলা, তদন্তে নেমে দ্রুততার সাথে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত স্বামী

ধর্মনগরের হাফলঙে নৃশংস খুন এক মহিলা, তদন্তে নেমে দ্রুততার সাথে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত স্বামী

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ ঘরের বারান্দা থেকে উদ্ধার এক মহিলার রক্তাত্ত দেহ ধর্মনগর থানাধীন হাফলং পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এসডিপিও এবং ওসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার তদন্তে নেমে মহিলাকে খুনের তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশমৃতের মুখমণ্ডল ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুততার সাথে খুনে অভিযুক্ত স্বামী সঞ্জয় মুন্ডাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

          নারী সংক্রান্ত অপরাধ কিছুতেই থামছে না। মূল্যবোধের অবক্ষয়ে সমাজের একটা শ্রেণীর মধ্যে এধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলছে। মহিলা খুনের ঘটনাও আজকাল একটা রুটিন হয়ে পড়েছে। এবার ধর্মনগর হাফলং পঞ্চায়েতের ৭ নং ওয়ার্ডে এক মহিলার রক্তাত মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েদেহ উদ্ধারের দীর্ঘ সময় পর মৃতার পরিচয় অধরা থাকে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় মঙ্গলবার বিকেলে ওই এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় এক মহিলা ও পুরুষকে ব্যাগ নিয়ে ঘুরাঘুরি করতে দেখে এলাকার লোকজনকিন্তু গ্রামের মানুষ কেউ জিজ্ঞাসা করেনি তারা কোথা থেকে এসেছে। তবে সন্ধ্যা থেকে তারা দুইজন প্রচণ্ড মদমত্ত অবস্থায় ঝগড়া করতে শুরু করে বলে জানায় এলাকার মানুষ। রাতেও দুইজনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া শুনতে পায় স্থানীয় লোকজনযদিও কেউ এগিয়ে আসেনি। রাতে ওই পুরুষ ও মহিলা এলাকার একটি ঘরের সামনে আশ্রয় নেয় যথারীতি বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্রামের মানুষ দেখতে পায় ওই ঘরের সামনে মহিলার মৃতদেহ পড়ে আছে কিন্তু সঙ্গে থাকা পুরুষ লোকটি ঘটনাস্থলে ছিল নাএরপরই গ্রামবাসী প্রথমে খবর দেয় হাফলং পঞ্চায়েত এলাকার প্রধান প্রমীলা গৌড়কে তিনি এসে ঘটনা দেখে খবর দেন ধর্মনগর থানায়। এদিকে খবর পাওয়া মাত্র মহকুমা পুলিস আধিকারিক রাজীব সূত্রধর, ধর্মনগর থানার ওসি দেব প্রসাদ রায়, মহিলা থানার ওসি স্বর্ণা দেববর্মা বিশাল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে আনা হয় ডগ স্কোয়াড। পুলিস এসে ঘটনাস্থলে দেখতে পায় এক রক্তাক্ত মহিলার মৃতদেহ পড়ে আছে তার মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বারান্দায় চারিদিকে রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রও এদিক সেদিক পড়ে রয়েছে। সেই সাথে পাওয়া যায় মদের বোতল হত্যায় ব্যবহৃত চাকু যদিও সঙ্গে থাকা পুরুষ লোকটি গায়েব হয়ে যায়পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করে পুলিশ অফিসারদের ধারণা করতে দেরী হয়নি যে, প্রচণ্ড মদমত্ত অবস্থায় রাতে দুইজনের মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে পুরুষ লোকটি এই মহিলাকে খুন করে পালিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিস ঐ মহিলার ভোটার কার্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু পরিচয়পত্র অস্পষ্ট থাকায় বেশি কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃতদেহ উদ্ধারের পরপরই একটি মামলা নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে ধর্মনগর থানার পুলিশ। পরবর্তী সময়ে বেলা ১টা নাগাদ হাফলং পুলিশ লাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত সঞ্জয় মুন্ডাকে। তার পরনের শার্ট প্যান্টে রক্তের দাগ পেয়েছে পুলিশ। নিহত মহিলা লাকি মুন্ডা তার স্ত্রী বলে পুলিশকে জানায় সে। তাদের বাড়ি সিধাইয়ের কলাগাছিয়া এলাকায়। খুন কান্ডে আরো তথ্য পেতে তদন্তকারী অফিসার অভিযুক্তকে দফায় দফায় জেরা করছেন। কাজের মানসিকতা থাকলে পুলিশ কিই বা না করতে পারে এই হত্যাকান্ডের নেপথ্যে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের মধ্যে সেটা প্রমাণ করলো পুলিশ।

Loading...
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/647

Leave a Comment