A TRI-Language Channel Bengali | kokborok | English

পশ্চিম থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ডাকাত চক্রের পান্ডা, পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি মামলায় সফলতা

পশ্চিম থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ডাকাত চক্রের পান্ডা, পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি মামলায় সফলতা

হেডলাইন্স ত্রিপুরা ওয়েব ডেস্কঃ উদয়পুরের মহারাণী পেট্রোল পাম্পে দুঃসাহসিক ডাকাতি কান্ডে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ফের এক অভিযুক্ত। এরআগে কিল্লা থানা এলাকা থেকে চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয় ৬ জন অভিযুক্ত। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল দুটি পিস্তল ও নগদ টাকা সহ বেশ কিছু সামগ্রী। আর এবার আগরতলার লেইক চৌমুহনী এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে ঝটিকা অভিযানে জালে পড়লো ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র যোগানের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড লক্ষণ দেববর্মা।

           সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ সেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেও স্বাভাবিক থাকতে পারলো না এরা। অপরাধ যেন তাদের শিরা ও ধমনিতে শিহড়িত হয়ে চলেছে। তাইতো পেট্রোল পাম্পে দুঃসাহসিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় এরা নিজেদের জড়িয়ে ফেললো। এসকল অপরাধীরা সকলেই আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য বলে পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে আরকেপুর থানাধীন মহারাণী এলাকার জয়ন্তী ফিলিং স্টেশন নামে এক পেট্রোল পাম্পে হানা দিয়েছিল বেশ কয়েকজনের সশস্ত্র দুষ্কৃতি দল। মুখে কালো কাপড় বেঁধে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে দুষ্কৃতিরা পেট্রোল পাম্পে ব্যাপক লুটপাত চালিয়েছিল। পাম্প কর্মীদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে লুট করে নিয়েছিল নগদ প্রায় ২ লক্ষাধিক নগদ টাকা। লুটপাতের পরই বাইক নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা জানাজানি হতে শুরু হয় পুলিশের দৌড়ঝাঁপ। ঘটনাস্থলে সেদিন ছুটে গিয়েছিলেন গোমতী জেলার পুলিশ সুপার এ আর রেড্ডির নেতৃত্বে পদস্থ আধিকারিকগণ। এরপরই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে খতিয়ে দেখা হয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সেখান থেকেই দুষ্কৃতিদের গতিবিধি জানতে পারে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে গোপন সূত্রে দুষ্কৃতি চক্রের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। সেই খবরের ভিত্তিতে কিল্লা থানার তরুণ ওসি বিশ্বজিত দেববর্মা দলবল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ডাকাতদের ডেরায় ঝটিকা তল্লাশি অভিযান চালানঝটিকা অভিযানে জালে তোলা হয় ডাকাত দলের সদস্য কিল্লার পুস্প সাধন জমাতিয়া, কৃষ্ণ বাবু মলসম, ভিক্টর জমাতিয়া, সিধাইয়ের স্বপন দেববর্মা, অম্পির ফাল্গুন জমাতিয়া এবং পিত্রার দয়াল জমাতিয়াকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি স্বয়ংক্রিয় পিস্তল, নগদ ৩৪,৮৩০ টাকা এবং বাইক। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ধৃতরা সকলেই আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি দলের সদস্য। তবে পুলিশের হাতে অধরা থাকে ডাকাত দলের আরো কয়েকজন। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম থানার ওসি সুব্রত চক্রবর্তীর কাছে রবিবার গোপন সূত্রে খবর আসে আগরতলার লেইক চৌমুহনী এলাকায় ভাড়া বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে ডাকাতি কান্ডের আরো এক মাস্টারমাইন্ড। যথারীতি সেই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালায় ওই গোপন ডেরায়। সেখান থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মহারাণী কান্ডের সাথে যুক্ত মান্দাইয়ের বাসিন্দা লক্ষণ দেববর্মাকে। গ্রেপ্তারের পরই তাকে নিয়ে আসা হয় পশ্চিম থানার হেপাজতে। সেখান থেকে ধৃতকে আরকেপুর থানার হেপাজতে তুলে দেওয়া হয়। এদিনই ধৃত ব্যক্তিকে পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। গোমতী জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত লক্ষণ দেববর্মা সেদিনের ডাকাতি কান্ডে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। তার কাছ থেকে অন্য দুষ্কৃতিরা ৬৮ হাজার টাকা দিয়ে পিস্তল কিনেছিল বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাকে জেরা চালিয়ে এই মামলার পুরো রহস্য জানা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় পুলিশের দ্রুত সাফল্যের পেছনে কিল্লা থানার ওসি বিশ্বজিত দেববর্মার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলেও সূত্রে জানা গিয়েছে।

Loading...
  • Link Shortener

  • http://headlinestripura.in/z/638

Leave a Comment